পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চ মূল্যের মসলা চাষ প্রকল্প।

০১।

প্রকল্পের নাম

:

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চ মূল্যের মসলা চাষ প্রকল্প

০২।

প্রকল্প পরিচালকের নাম

:

মোঃ শফিকুল ইসলাম

০৩।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা

:

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড

০৪।

প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল

:

অক্টোবর, ২০১৮খ্রিঃ হতে জুন, ২০২১খ্রিঃ

০৫।

প্রাক্কলিত ব্যয়

:

৩৪৮৭.২৫ লক্ষ টাকা

০৬।

প্রকল্প এলাকা

:

তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলা

০৭।

প্রকল্প গ্রহনের প্রেক্ষাপট

:

বাঙালির ভোজন বিলাসিতার পৃথিবীজুড়ে খ্যাতি রয়েছে। আর ভোজন বিলাসিতায় নানাবিধ মসলার সমন্বয়ে রন্ধনশৈলীর উপস্থাপনা যে কোনো মানুষের মন জয় করে নিতে এতটুকু সময় লাগে না। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এশিয়ান লোকেরা যে হারে মসলার ব্যবহার করে থাকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে তা লক্ষণীয় নয়। আর খাবারকে রুচিশীল ও মুখরোচক করতে মসলার বিকল্প হয় না। 

বাংলাদেশের অন্যতম অনুন্নত এলাকা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোনে অবস্থিত তিনটি জেলা যথাঃ রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল গঠিত। বাংলাদেশের প্রায় এক দশমাংশ এলাকা বিভিন্ন উচ্চতার পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত। পার্বত্য এ এলাকায় আবাদযোগ্য মাঠ ফসলী জমি আছে মাত্র মোট জমির ৫ শতাংশ। সমতল জমির অভাবে এখানে ফসল আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগ খুবই সীমিত। অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে কৃষকগণ তাদের খাদ্যের চাহিদা মিটাতে পাহাড়ের ঢালে অপরিকল্পিত চাষাবাদ করে থাকেন। এর ফলে একদিকে যেমন ভূমি ক্ষয় এবং ভূমির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস করে অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট করে। এ এলাকার জমি মসলা জাতীয় ফসল ও ফলের বাগানের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকার অনেক পাহাড়ী ভূমি এখনও আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে পার্বত্য এলাকার মোট ভূমির প্রায় ২২ শতাংশ উদ্যান ফসলের আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান ও আবহাওয়া বিবেচনায়, এখানে উদ্যান ও মসলা জাতীয় ফসল আবাদের অনেক সুযোগ রয়েছে। দরিদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকদের উদ্যান ও মসলা জাতীয় ফসল আবাদে সম্পৃক্ত করা সবচাইতে ভাল বিকল্প। এগ্রো-ফরেষ্ট্রি কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র লোকদের পুনর্বাসন একটি যথাযথ ও পরীক্ষিত উপায় এবং আরও সম্প্রসারনের উপযোগী।

পার্বত্য চট্টগ্রামের উচ্চ ভূমির বিরাট এলাকায় উন্নত জাতের উচ্চমূল্যের মসলা ফসলাদি যেমন-দারুচিনি, তেজপাতা, আলুবোখারা, গোলমরিচ, জুম মরিচ, ধনিয়া, বিলাতি ধনিয়া ইত্যাদি চাষাবাদ করে দেশের চাহিদা পূরণ করা যাবে। এসব ফসলের আবাদের ফলে কৃষকগণ লাভবান হবেন এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় কোন জলাবদ্ধতা হয়না। ফলে এখানে স্থায়ী মসলা বা ফসলের বাগান করার ভাল সুযোগ রয়েছে। মসলার বানিজ্যিক প্রক্রিয়াজাত কারখানা করলে সুলভে কাঁচামাল পাওয়া যাবে এবং তা লাভজনক হবে। পাশা-পাশি বিপুল পরিমানে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরণের পচনশীল কৃষিপণ্য নষ্টের হাত থেকে রেহাই পাবে ও কৃষকগণ বিক্রি করে ন্যায্য মুল্য পেতে পারে।

তুলনামুলক দুর্গম স্থানে উচ্চমুল্যের ও কম ওজনদার মসলা ফসল যেমন- ঢালু স্থানে দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচ, আলুবোখারা, জুমমরিচ প্রভৃতি ফসল এবং সমতলে মৌরী, মেথি মরিচ, নাগা মরিচ, কালজিরা ইত্যাদি মসলা ফসল চাষাবাদের সুযোগ রয়েছে। এসব ফসল কম ওজনদার, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য ও মূল্যবান হওয়ায় কৃষকগণ নিজ ঘরে তা সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সময়ে সহজে দূরের বাজারে নিয়ে বিক্রি করে অধিক অর্থ পেতে পারে। এসব ফসলের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে গ্রামীন মহিলাদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। এসব ফসলের মধ্যে দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচ, আলুবোখরা, জুমমরিচ প্রভৃতি এবং নরম বাকল বিশিষ্ট বৃক্ষাদি (আম, কাঠাল, সজিনা, বকফুল, মাদার, জিকা) থাকা সাপেক্ষে গোলমরিচ এর আবাদও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

এসব বিষয় বিবেচনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ‘‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চ মূল্যের মসলা চাষ’’ শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহন ও বাস্তবায়ন করছে।

০৮।

মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা

:

২,৬০০ জন/পরিবার

০৯।

উদ্দেশ্য

:

সাধারণ উদ্দেশ্য:

 পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় টেকসই জীবনমানের উন্নয়ন ও ২,৬০০ দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি।

সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য

ক) পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চ মূল্যের মসলা চাষের মাধ্যমে পারিবারিক আয় বৃদ্ধিকরণ এবং দারিদ্র হ্রাসকরণ;

খ) উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পুষ্টি, পারিবারিক খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি সাধন ও নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি;

গ) পার্বত্যাঞ্চলে মসলার উৎপাদন বৃদ্ধিকরণ;

ঘ) মসলার আমদানি হ্রাসকরণ এবং মানসম্পন্ন মসলা উৎপন্ন করে দেশীয় চাহিদা পুরণ।

১০।

প্রকল্পের প্রধান উপাদান সমূহ

:

১) ২,৬০০ টি উচ্চ মূল্যের মসলা বাগান সৃজন;

২) ২,৬০০ টি জৈব সারের পিট তৈরিকরণ;

৩) ২,৬০০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান।  

১১।

প্রকল্পটির সাথে ভিশন ২০২১, এসডিজি, ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং সরকারের ইশতেহারের সম্পর্ক

:

১) ভিশন-২০২১:

ক) প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে মসলার উৎপাদনশীলতা এবং পার্বত্য জেলাসমূহে মসলা চাষের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দারিদ্র্যতা দূরীকরণের মাধ্যমে ভিশন-২০২১ এর কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।

২) এসডিজিঃ

ক) দারিদ্র্যমুক্ত

খ) ক্ষুধামুক্ত

৩) ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাঃ

ক) আয় ও দারিদ্র্যতা

খ) লিঙ্গ সমতা, আয় সমতা ও সামাজিক সুরক্ষা

গ) টেকসই পরিবেশ

৪) সরকারের ইশতেহারঃ

ক) দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস

খ) কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টিঃ খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে নিশ্চয়তা

গ) জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা

১২।

প্রকল্পের বিভিন্ন কাযক্রমের ছবি

:

ছবি

১৩।

ছোট আকারের ভিডিও

:

ভিডিও

১৪।

বাস্তবায়ন অগ্রগতি

:

প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৮০০টি মসলা বাগান সৃজন করা হয়।


Share with :

Facebook Facebook